📰 Breaking News • রহস্যের জগৎ 👻 ভৌতিক রহস্য 🔎 অমীমাংসিত রহস্য 🕵️ অপরাধ ও গোয়েন্দা 📜 অন্ধকার ইতিহাস 🕯️ ষড়যন্ত্র ও গোপন রহস্য Explore
Loading
রহস্যময় - Mystery Stories

অদৃশ্য এজেন্ট: যে গুপ্তচরটি মিশন শেষে আর কখনও ফিরে আসেনি

অদৃশ্য এজেন্ট: যে গুপ্তচরটি মিশন শেষে আর কখনও ফিরে আসেনি

এই গল্পটি একটি কাল্পনিক গুপ্তচর-কাহিনি। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা ঘটনার সঙ্গে মিল সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত।

পর্ব -এক

রাত ২টা ১৭ মিনিট।বৃষ্টির শব্দে শহরটা যেন নিজের অস্তিত্ব লুকিয়ে ফেলেছিল।পুরনো রেলওয়ে গুদামের ছাদ থেকে একটানা জল পড়ছিল। দূরে কোথাও মালগাড়ির লোহার চাকা রেলের ওপর ঘষে যাচ্ছিল—একটা দীর্ঘ, কর্কশ শব্দ, তারপর আবার নিস্তব্ধতা।ঘড়ির কাঁটা ২টা ১৮ ছুঁতেই দরজায় তিনবার টোকা পড়ল।টক।একটু বিরতি।টক। টক।ভেতর থেকে কেউ দরজা খুলল না।কয়েক সেকেন্ড পর বাইরে দাঁড়ানো লোকটি নিচু গলায় বলল,— “বৃষ্টি থামার আগে ট্রেন চলে যাবে।”ভেতর থেকে উত্তর এল,— “যে ট্রেনের কথা কেউ জানে না, সেটা চলে যাওয়ার ভয় কিসের?”দরজা খুলে গেল।লোকটি ভিতরে ঢুকল।

তার হাতে ছিল শুধু একটি কালো চামড়ার ব্যাগ।কোনও অস্ত্র দেখা যাচ্ছিল না। কোনও পরিচয়পত্রও নয়।শুধু ব্যাগের হাতলে বাঁধা ছিল একটি ছোট ধাতব ট্যাগ।তাতে লেখা—K-17

টেবিলের অপর পাশে বসে থাকা মানুষটি ব্যাগটির দিকে তাকালেন।তারপর বললেন,— “তুমি জানো, এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কী?”লোকটি চুপ করে রইল।— “মিশন শেষ হলে,” তিনি ধীরে ধীরে বললেন, “তোমার অস্তিত্বও শেষ হয়ে যাবে।”লোকটি এবার মাথা তুলল।— “মানে?”— “মানে, তুমি ফিরে আসবে না।”

কয়েক সেকেন্ড ঘরে শুধু বৃষ্টির শব্দ শোনা গেল।তারপর লোকটি জিজ্ঞেস করল,— “তাহলে আমাকে পাঠাচ্ছেন কেন?”
টেবিলের ওপারে বসা মানুষটি একটি ফাইল এগিয়ে দিলেন।ফাইলের ওপর কোনও নাম ছিল না।শুধু একটি লাল সিল—PROJECT NIGHTFALL -লোকটি ফাইল খুলল।
প্রথম পাতায় মাত্র একটি বাক্য।“যদি তুমি এই ফাইলটি পড়তে পারো, তাহলে ইতিমধ্যে কেউ একজন তোমাকে খুঁজছে।”সে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।কারণ তখনও সে জানত না—এই মিশন থেকে ফিরে আসার কথা আসলে কখনও ছিলই না।
যে মানুষটির কোনও নাম ছিল না তার আসল নাম কী ছিল, সেটা খুব কম মানুষই জানত।সরকারি নথিতে সে ছিল অন্য একজন।পাসপোর্টে অন্য নাম।ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অন্য পরিচয়।আর তার সবচেয়ে কাছের সহকর্মীর কাছেও সে পরিচিত ছিল শুধু একটি কোডনেমে—“কাই।”

কাই কোনও দেশের আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মী ছিল না।কমপক্ষে কাগজে-কলমে নয়।তার কাজ ছিল এমন জায়গায় যাওয়া, যেখানে একজন সাধারণ গুপ্তচরের যাওয়ার কথা নয়।কখনও সাংবাদিক।কখনও ব্যবসায়ী।কখনও অনুবাদক।আবার কখনও এমন একজন মানুষ, যার অস্তিত্বই নেই।সে বছরের পর বছর ধরে একটি নিয়ম মেনে চলত—প্রমাণ রেখে যেও না।কোনও ছবি নয়।কোনও ব্যক্তিগত চিঠি নয়।কোনও স্থায়ী যোগাযোগ নয়।এমনকি তার সহকর্মীদেরও তার আসল মুখ মনে রাখার কথা ছিল না।কিন্তু Nightfall ছিল আলাদা।কারণ এই মিশনে তাকে এমন একটি জায়গায় যেতে হবে, যেখান থেকে ফিরে আসার পরও তার জন্য পৃথিবীতে কোনও পরিচয় থাকবে না।

পর্ব -দুই

মানচিত্রে যে জায়গাটা ছিল নাতিন দিন পর কাই পৌঁছেছিল একটি সীমান্তবর্তী শহরে।

শহরটির নাম ভালেন।সরকারি মানচিত্রে ভালেন ছিল।কিন্তু কাই যে জায়গায় যাচ্ছিল, সেটা ছিল না।শহরের বাইরে পাহাড়ের ভেতর একটি পুরনো গবেষণা কেন্দ্র।সোভিয়েত আমলে তৈরি।পরে বন্ধ হয়ে যায়।তারপর সরকারি নথি থেকে জায়গাটির নাম ধীরে ধীরে মুছে যায়।কিন্তু গত ছয় মাসে উপগ্রহচিত্রে সেখানে অস্বাভাবিক কিছু দেখা গিয়েছিল।রাতে আলো জ্বলত।সপ্তাহে দুবার কালো কাচের গাড়ি ঢুকত।আর আশপাশের গ্রামে কেউ জানত না—সেখানে আসলে কী হচ্ছে।কাইয়ের কাজ ছিল শুধু একটি জিনিস খুঁজে বের করা।Room 17.
তারপর সেখান থেকে একটি ছোট কালো ডেটা-ড্রাইভ নিয়ে বেরিয়ে আসা।তাকে বলা হয়েছিল,— “ড্রাইভটি পাওয়ার পর কাউকে বিশ্বাস করবে না।”কাই তখন হেসেছিল।— “আমি তো কাউকেই বিশ্বাস করি না।”অপর প্রান্ত থেকে উত্তর এসেছিল,— “এইবার নিজেকেও করবে না।”
প্রথম অস্বাভাবিকতা ।
কাই ভালেন শহরে পৌঁছে বুঝতে পারল কিছু একটা ঠিক নেই।তার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল একজন স্থানীয় informant-এর।কোডনেম—মার্কো।রাত দশটায় পুরনো একটি ক্যাফেতে তাদের দেখা করার কথা।কাই ঠিক সময়ে পৌঁছেছিল।মার্কো আসেনি।দশটা দশ।দশটা কুড়ি।দশটা চল্লিশ।কেউ এল না।শেষ পর্যন্ত কাই উঠে দাঁড়াল।ঠিক তখনই পাশের টেবিলে বসা এক বৃদ্ধ বললেন,— “আপনি কি কারও জন্য অপেক্ষা করছেন?”কাই তাকাল।— “না।”
বৃদ্ধ হেসে বললেন,— “ভালো করেছেন।”কাই থেমে গেল।বৃদ্ধ এবার খুব নিচু গলায় বললেন,— “কারণ মার্কো গতকাল মারা গেছে।”কাইয়ের মুখের অভিব্যক্তি বদলাল না।

পর্ব -তিন

কিন্তু তার ভেতরে যেন একটা দরজা বন্ধ হয়ে গেল।তারপর বৃদ্ধ আর কিছু না বলে উঠে চলে গেলেন।কাই সঙ্গে সঙ্গে ক্যাফে ছাড়ল।বাইরে এসে সে প্রথম ফোনটি করল headquarters-এ।কোনও উত্তর নেই।দ্বিতীয়বার।নীরবতা।তৃতীয়বার—লাইন কেটে গেল।তারপর তার ফোনে একটি মেসেজ এল।মাত্র চারটি শব্দ।“মিশন চালিয়ে যাও। একা।”
কাই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর ফোনটি বন্ধ করে দিল।কারণ সে বুঝতে পেরেছিল—মার্কোর মৃত্যু পরিকল্পনার অংশ ছিল না।

Room 17 গবেষণা কেন্দ্রটিতে ঢোকা কঠিন ছিল না।অস্বাভাবিকভাবে সহজ ছিল।এটাই কাইকে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় ফেলেছিল।প্রথম গেটের নিরাপত্তারক্ষী তার কাগজ দেখেই তাকে ঢুকতে দিল।দ্বিতীয় দরজাও খুলে গেল।তৃতীয় দরজায় biometric scanner থাকার কথা।সেটাও কাজ করল না।দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।কাই থামল।তার instinct বলছিল—ফিরে যাও।কিন্তু সে এগিয়ে গেল।করিডোরের শেষে একটি ধাতব দরজা।তার ওপর লেখা—17
কাই পকেট থেকে ছোট যন্ত্রটি বের করল।দরজার লক bypass করতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড লাগল।দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ঠান্ডা বাতাস এসে মুখে লাগল।ঘরটি প্রায় খালি।একটি টেবিল।একটি কম্পিউটার।আর টেবিলের ওপর একটি কালো ডেটা-ড্রাইভ।কাই ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।তারপর থেমে গেল।ড্রাইভের পাশে একটি ছবি রাখা।ছবিতে ছিল—কাই নিজেই।ছবিটি তোলা হয়েছে আগের রাতের।ভালেন শহরের সেই ক্যাফের বাইরে।তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল মার্কো।কাইয়ের বুকের ভেতর হঠাৎ বরফের মতো ঠান্ডা কিছু নেমে গেল।কারণ ছবিটির নিচে লেখা—“Agent K-17 — Compromised.”

পর্ব -চার

মিশনটা আসলে কী ছিল?কাই ডেটা-ড্রাইভটি হাতে নিল।সঙ্গে সঙ্গে ঘরের আলো নিভে গেল।একটি ছোট লাল emergency light জ্বলে উঠল।কম্পিউটারের স্ক্রিনে একটি ভিডিও চালু হলো।স্ক্রিনে দেখা গেল সেই মানুষটিকে, যিনি তিন দিন আগে তাকে মিশন দিয়েছিলেন।কাই স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল।ভিডিওতে মানুষটি বললেন—— “যদি তুমি এখানে পৌঁছে থাকো, তাহলে আমাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।”কাইয়ের চোখ সরু হয়ে এল।ভিডিও চলতে থাকল।— “Nightfall কোনও extraction mission নয়।”একটু বিরতি।— “
এটি একটি disappearance mission।”
কাই ফিসফিস করে বলল,— “কী?”
ভিডিওর মানুষটি বললেন,— “তোমাকে এখানে পাঠানো হয়েছে কারণ আমরা জানতে পেরেছি আমাদের সংস্থার ভেতরে একজন বিশ্বাসঘাতক আছে।”স্ক্রিনে কয়েকটি নাম ভেসে উঠল।তারপর একে একে সব নাম কালো হয়ে গেল।শেষে রইল মাত্র একটি নাম—K-17

কাই পিছিয়ে গেল।তারপর ভিডিওর শেষ বাক্যটি শুনল—— “বিশ্বাসঘাতক কে, সেটা জানার জন্য আমরা তোমাকে ব্যবহার করিনি। আমরা তোমাকে ব্যবহার করেছি বিশ্বাসঘাতককে তোমার কাছে নিয়ে আসার জন্য।”স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে গেল।ঠিক সেই মুহূর্তে করিডোরে পায়ের শব্দ শোনা গেল।একজন নয়।অনেকজন।

দরজার ওপাশে কারা ছিল?কাই ডেটা-ড্রাইভটি পকেটে ঢুকিয়ে দিল।তার কাছে মাত্র কয়েক সেকেন্ড ছিল।ঘরের পেছনে একটি ventilation shaft।সে সেটার ঢাকনা খুলে ফেলল।পায়ের শব্দ আরও কাছে।তারপর—ধাম!

Room 17-এর দরজা ভেঙে পড়ল।কাই ventilation shaft-এর অন্ধকারে ঢুকে গেল।নিচে পড়ার আগে শেষবার সে ঘরের দিকে তাকাল।দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির মুখ দেখে সে থমকে গেল।লোকটি তার পরিচিত।খুব পরিচিত।কারণ সেই মানুষটি ছিল—তার নিজের handler।যে তাকে তিন দিন আগে মিশনে পাঠিয়েছিল।

বিশ্বাসঘাতক কে?

কাই রাতভর শহর ছেড়ে পালিয়ে গেল।কিন্তু ডেটা-ড্রাইভটি খোলার পর তার সামনে যে সত্যি এল, সেটি আরও ভয়ঙ্কর।Nightfall-এর নথিতে কোনও বিদেশি শক্তির কথা ছিল না।কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের কথাও নয়।কোনও শত্রু রাষ্ট্রের নামও নেই।বরং সেখানে ছিল গত দশ বছরে পরিচালিত কিছু গোপন অভিযানের তালিকা।প্রতিটি অভিযানের পাশে লেখা—Successful.তারপর কাই একটি নাম দেখল।মার্কো।তারিখ—গতকাল।Status:Deceased — Cover Identity

কাই স্তব্ধ হয়ে গেল।মার্কো মারা যায়নি।তার মৃত্যু সাজানো হয়েছিল।কিন্তু কেন?আর ঠিক তখনই ড্রাইভের শেষ ফাইলটি খুলল।ফাইলটির নাম ছিল—K-17_FINAL
কাই কয়েক মুহূর্ত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।তারপর ফাইলটি খুলল।ভেতরে ছিল একটি ভিডিও।ভিডিওতে দেখা গেল—কাই নিজেই।কিন্তু সে জানত না এই ভিডিও কবে ধারণ করা হয়েছে।ভিডিওতে তার নিজের মুখ।নিজের কণ্ঠ।আর সে বলছে—“যদি তুমি এই ভিডিও দেখো, তার মানে তুমি এখনও বুঝতে পারোনি আসল সত্যিটা।”কাইয়ের হাত কেঁপে উঠল।ভিডিওর মানুষটি বলল—“তুমি যে মানুষটিকে বিশ্বাসঘাতক ভাবছ, সে বিশ্বাসঘাতক নয়।”একটু বিরতি।
তারপর—“কারণ Nightfall-এর পরিকল্পনা তৈরি করেছিলে তুমিই।”

পর্ব -পাঁচ

যে স্মৃতিটা তার নিজের ছিল না
কাই ভিডিও বন্ধ করে দিল।
তার মাথায় হঠাৎ কিছু পুরনো দৃশ্য ফিরে আসতে লাগল।একটি হাসপাতাল।সাদা আলো।একজন ডাক্তার।একটি অচেনা কণ্ঠ—“আপনি যদি জেগে ওঠেন, কিছুই মনে রাখবেন না।”কাই দেয়ালে হাত রাখল।তার মনে পড়ল—ছয় মাস আগে একটি মিশনে সে আহত হয়েছিল।তারপর?কিছুই মনে নেই।
Headquarters বলেছিল, সে তিন সপ্তাহ হাসপাতালে ছিল।কিন্তু ডেটা-ড্রাইভের একটি file timestamp দেখাচ্ছিল—সে সেই সময়ে অন্য একটি দেশে ছিল।কেউ তার স্মৃতি নিয়ে খেলেনি।বরং আরও ভয়ঙ্কর কিছু ঘটেছিল।কাইয়ের জীবনের শেষ ছয় মাসের নথিই বদলে দেওয়া হয়েছিল।

শেষ যোগাযোগ
ভোর হওয়ার কিছু আগে কাই একটি পুরনো radio station-এ পৌঁছল।সেখানে একটি emergency transmitter ছিল।সে frequency সেট করল।একবার।দুবার।তারপর একটি কণ্ঠ ভেসে এল।— “K-17?”কাই চোখ বন্ধ করল।— “হ্যাঁ।”— “তুমি কোথায়?”— “যেখানে আমাকে পাঠিয়েছিলে।”অপর প্রান্তে দীর্ঘ নীরবতা।তারপর কণ্ঠটি বলল,— “তাহলে তুমি সত্যিটা জেনে গেছ।”কাই বলল,— “Nightfall কে তৈরি করেছিল?”
কিছুক্ষণ কোনও উত্তর এল না।
তারপর—— “তুমি।
”কাই চুপ করে রইল।— “আমি কেন?”—
“কারণ ছয় মাস আগে -
তুমি জানতে পেরেছিলে আমাদের সংস্থার ভেতরে কেউ গোপন তথ্য বিক্রি করছে।”— “তারপর?”— “তুমি কাউকে বিশ্বাস করোনি। এমনকি আমাদেরও না।”কাই ধীরে ধীরে বুঝতে পারল।তার নিজের তৈরি করা পরিকল্পনায়—সে নিজেকেই ব্যবহার করেছিল।

তারপর কণ্ঠটি বলল,— “তুমি জানতে পেরেছিলে একদিন তোমার নিজের memory compromised হতে পারে।”— “তাই তুমি Nightfall তৈরি করেছিলে।”— “আর নিজের জন্য শেষ মিশন রেখে গিয়েছিলে।”কাইয়ের চোখ বন্ধ হয়ে গেল।— “কী ছিল সেই মিশন?”অপর প্রান্তে উত্তর এল—“অদৃশ্য হয়ে যাও।”

সে কি সত্যিই ফিরে এসেছিল?
কাই সেদিন আর headquarters-এ ফেরেনি।তারপর থেকে তার কোনও সরকারি রেকর্ড পাওয়া যায়নি।কোনও passport movement নেই।কোনও ব্যাংক transaction নেই।কোনও পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ নেই।এমনকি তার handler-ও কয়েক সপ্তাহ পর নিখোঁজ হয়ে যায়।Nightfall-এর সমস্ত নথি ধ্বংস করা হয়।Room 17-ও কয়েক মাস পর বন্ধ করে দেওয়া হয়।সরকারি রিপোর্টে বলা হয়েছিল—“No operative assigned to Project Nightfall was recovered.”

কিন্তু গল্পটা সেখানেই শেষ নয়।প্রায় এক বছর পর, ইউরোপের একটি ছোট শহরের পুরনো রেলস্টেশনে একজন অচেনা মানুষকে দেখা যায়।তার হাতে ছিল একটি কালো চামড়ার ব্যাগ।ব্যাগের হাতলে বাঁধা ছিল একটি ছোট ধাতব ট্যাগ।তাতে লেখা—K-17স্টেশনের CCTV ফুটেজে মানুষটিকে মাত্র এগারো সেকেন্ড দেখা যায়।সে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ায়।ঘড়ির দিকে তাকায়।তারপর একটি ট্রেনে উঠে যায়।ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে চলে যায়।তদন্তকারীরা পরে ফুটেজটি পরীক্ষা করেছিলেন।কিন্তু একটি অদ্ভুত ব্যাপার ধরা পড়ে।লোকটির মুখ ক্যামেরায় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল না।শুধু ট্রেনে ওঠার ঠিক আগে সে একবার ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছিল।আর ঠোঁট নাড়িয়ে কিছু বলেছিল।বিশ্লেষকরা শব্দটি বুঝতে পারেননি।কিন্তু একজন পুরনো গোয়েন্দা দাবি করেছিলেন—তিনি শব্দটি চিনেছিলেন।শব্দটি ছিল—“শেষ।”

তবে তার পরের অংশ কেউ কখনও জানতে পারেনি।কারণ ট্রেনটি যেখানে পৌঁছেছিল, সেই স্টেশনের CCTV ক্যামেরাগুলো সেদিন রাত ২টা ১৭ মিনিটে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।আর সেই রাতের পর—K-17-কে আর কখনও দেখা যায়নি।

------------------

Evidence

Related Stories

১১:৪৫-এর শেষ ট্রেন

নিশীথপুর স্টেশনে প্রতিদিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে এক অচেনা বৃদ্ধ এসে একই বেঞ্চে বসতেন, একই কামরায় উঠতেন—কিন্তু কখনও টিকিট কাটতেন ...
/

৩০৫০ সালের কাজের মানুষ

৩০৫০ সালে ঘরের কাজ আর মানুষকে করতে হয় না। শশীধরবাবু তাই কিনে আনলেন HOME-9—এক অত্যাধুনিক গৃহস্থালি রোবট, যে রান্না থেকে ...
/

অদৃশ্য এজেন্ট: যে গুপ্তচরটি মিশন শেষে আর কখনও ফিরে আসেনি

একটি গোপন মিশনে পাঠানো হয়েছিল K-17-কে—একটি অদৃশ্য গবেষণা কেন্দ্রে ঢুকে Room 17 থেকে একটি রহস্যময় ডেটা-ড্রাইভ উদ্ধার করার জন্য। কিন্তু ...
/

Latest From Categories

Latest Post

কায়াকল্প

অফিস থেকে ফিরে সুমন নিশ্চিন্তে চায়ে চুমুক দিচ্ছিল। এমন সময় পাশের ঘর একদম নিস্তব্ধ দেখে খটকা লাগায় উঁকি দিতেই তার...

You Missed

Join Our Community

Never Miss an Article

Enter your newsletter form shortcode in the Customizer → Newsletter / CTA Section.

error: Content is protected !!